BCS Our Goal

বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০১৬

চাকুরীর পরীক্ষার জন্য ইংরেজি বিষয়ের প্রস্তুতি

By on ৬:১০ AM
অভিজিৎ বসাক
৩৩ তম বিসিএস সম্মিলিত মেধায় ৫ম, প্রশাসনে ১ম

বর্তমান সময়ে যদি বলা হয় চাকুরির পরীক্ষায় আপনার সবচেয়ে বড় বাঁধা কি, হয়ত চোখ বন্ধ করে অনেকেই বলবেন ইংরেজি। অনেকের কাছেই এটি একটি ভীতিকর বিষয় যদিওবা আমরা ১৬ বছর কমপক্ষে ইংরেজি পড়েছি। আমি সরাসরি কথায় চলে যাচ্ছি, স্বল্প সময়ে উন্নতি করবেন কিভাবে, এই চিন্তা আগে মাথা থেকে দূর করেন, এরপর আমার এই পোস্টটা কষ্ট করে পড়তে পারেন,হয়তোবা কাজে লাগলেও লাগতে পারে।
এবার কাজের কথায় আসি.....
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলাটা একটা ফ্যাশন বটে। আর এতে যদি ইংরেজীকে যোগ করা যায়, দেখবেন, চারপাশের অনেক কিছুই বদলে যাচ্ছে। প্রথমে আপনাকে একটি মোবাইল (smartphone) ফোনের মালিক হতেই হবে। ইংরেজি একটি ভাষা কেবল, মুখস্ত করার কিছুই নেই। এখন কিন্তু বিভিন্ন জায়গাতেই wi fi থাকে যা আপনি চাইলেই ব্যবহার করতে পারেন বা ইন্টারনেট connection নিতে পারেন। প্রথমে youtube এ একটি account খুলে নিন। এরপর offline এ দেখা যাবে এমন সব ভিডিও নামিয়ে রাখবেন। বেশিরভাগ শিক্ষামুলক ভিডিও offline এ দেখা যায়। যত পারেন, spoken English video, interview, math, etc যা পারেন নামিয়ে নিন। এরপর আপনার কাজ হল বাসে বসে যে সময়টা হয়ত ফেসবুক ব্যবহার করছেন, সে সময়টা ভিডিও দেখে ও কানে headphone লাগিয়ে শুনতে শুনতে পার করতে শুরু করেন। এছাড়া এই কাজটা কঠিন হলে আপনি বিভিন্ন website থেকে audio ফাইল নামাতে পারেন, লিসেনিং এর জন্য।
তেমন একটি সাইট হল http://www.esl-lab.com/?no_redirect=true
সারাজীবন কাজে লাগবে আপনার যদি ব্যবহার করতে পারেন।
এবার আমরা আসি, স্পিকিং এ। এই এই সেকশনে সবার অনেক সমস্যা থাকে, এমনকি অনেক ভালো ইংরেজি জানা ব্যক্তিও এই সেকশনে অনেক সময় খারাপ করে ফেলেন। আপনি যে লিসেনিং করছেন, চেষ্টা করেন নিজের মত করে বলতে, হোঁচট খাবেন, doesn't matter,এই মতবাদ এ বিশ্বাস রাখুন। চাইলে একটা গ্রুপ করে নিতে পারেন, যাদের সাথে নিয়মিত ইংরেজিতে কথা বলবেন। কাউকে না পেলে নিজে নিজেই কাজ চালিয়ে যাবেন আয়নার সামনে। প্রতিকূল পরিবেশকে খুব একটা কেয়ার করবেন না। দুই রকমের মানুষ আছে, এক শ্রেনী বাঁধা আসলে হাল ছেড়ে দেয়, আরেক শ্রেণী কষ্ট করে হলেও সেইটা achieve করেন। এভাবে practice করতে পারলে এক সময় খুব সহজে English talk বুঝতে পারবেন এবং নিজেও কথা বলতে পারবেন সহজে। তাই, introduce yourself এই প্রশ্নের উত্তর এখন আর মুখস্ত করে দিতে হবে না,নিজে থেকে সুন্দর করে গুছিয়ে দিতে পারবেন।
Summary writing এর ক্ষেত্রে পুরো লেখাটা ছোট ছোট করে ভাগ করে ফেলতে হবে।এরপর ওই ছোট ছোট অংশগুলোকে অনুবাদ করে প্রতিটি অংশের একটা করে summary করার চেষ্টা করুন ও খাতায় লিখে ফেলুন সংক্ষেপে। এরপর সবগুলো ভাগের summary পর্যালোচনা করলে আপনি পুরো গল্পের summary কি হবে,তার একটা ধারণা পাবেন যা আপনাকে পুরো গল্পের summary লিখতে অনেক সাহায্য করবে।
English Writing এর ক্ষেত্রে আপনাকে নিয়মিত চর্চা করতে হবে।প্রতিদিন আমরা অনেক কাজ করি বা অনেক ঘটনা দেখি যা আমরা একটু করে লিখতে পারি English এ ।ঘটনার ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে আমরা যেন লিখতে পারি সেইটা খেয়াল রাখতে হবে।প্রথমদিকে ভুল হবে কিন্তু চর্চা করতে থাকলে এক সময় ঠিক হয়ে যাবে। English Writing চর্চা paragraph বা eassy লেখার ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করবে।
English to Bengali and Bengali to English অনুবাদ করার ক্ষেত্রে প্রতিটা sentence বুঝে ফেলা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । এক্ষেত্রেও পুরো লেখাটা ছোট ছোট করে ভাগ করে ফেলতে হবে।এরপর ওই ছোট ছোট অংশগুলোকে অনুবাদ করতে থাকলে সহজে ও কম সময়ে পুরো অনুবাদ করে ফেলা যাবে। English to Bengali and Bengali to English অনুবাদ করার ক্ষেত্রে vocabulary অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।এবার আসি vocabulary নিয়ে।এটা নিয়ে কিছুদিন আগেই লিখেছিলাম।আবারও ওই অংশটুকু repeat করছি। বিসিএসের জন্য প্রিলিতে বা লিখিত পরীক্ষায় খুব কঠিন vocabulary লাগে না। নিয়মিত পত্রিকা আর word smart বইটা দেখে নিলেই হবে। তবে আমি গতানুগতিক ভাবে গাধারখাটুনি খেটে vocabulary শেখার পক্ষপাতী নই। mnemonic style টা আমার কাছে খুব ভাল লাগে। যেমন ধরুন, আপনি মুখস্ত করছেন Rowdy এর অর্থ কি? এর অর্থ যত বার পড়েন কিন্তু আপনি হয়ত ভুলে যান। তাই না। কিন্তু আপনি যদি একবার অক্ষয় কুমারের রাওডি(rowdy) রাঠোর মুভি দেখে থাকেন, তাহলে বুঝবেন কি পরিমান হইচই পূর্ণ মুভি এটা। আর rowdy মানে কিন্তু এটাই। noisy বা হইচই পূর্ণ ।আবার, boor শব্দের অর্থ rude.আমরা নাক বড় শব্দটা প্রায় ব্যবহার করি।এই শব্দ ব্যবহার করি বড়াই বা ওদ্ধত ভাব বোঝাতে। নাক বড় আর boor word টা খুব পাশাপাশি ।তেমনি welter word টা আমরা ক্যারাম খেলাতে প্রায় ব্যবহার করি। অন্য পক্ষের গুটিকে সরিয়ে নিজের গুটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াকে আমরা ক্যারাম খেলায় welter বলি। এই প্রক্রিয়া হল বিশৃঙ্খলা বা গুটি এলোমেলো করে দেয়া। welter মানে হল a large number of items in no order; a confused mass বা এলোমেলো বা বিশৃঙ্খলা । এভাবে পড়লে আর ভোলা সম্ভব না। তবে আর একটা ব্যাপার, English daily must পড়তে হবে। এই reading habit টা আপনার ইংরেজি vocabulary, preposition, speaking and writing skill বাড়াতে অনেক বেশি সাহায্য করবে ।যা হোক, অনুবাদের ক্ষেত্রে পুরো বাক্যটিকে ছোট অংশে বিভক্ত করে অনুবাদ করতে চেষ্টা করুন। এতে ভুল হবার সম্ভবনা কমে যায়।কেননা অনেক সময় এত বড় বাক্য আসে যেটাকে একেবারে অনুবাদ করতে গেলে ভুল হবার সম্ভবনা থাকে। প্রচুর চর্চা ও এই ছোট খাটো technique গুলো English to Bengali and Bengali to English অনুবাদ অংশে আপনার সাফল্য বাড়াতে সাহায্য করবে।
এবার আসি গ্রামার সেকশনে, বিসিএস,ব্যাংক বা অন্যান্য চাকুরির পরীক্ষার গ্রামার পার্ট যদিও দেখতে বড়, কিন্তু ব্যাপার হল আপনি চাইলেই এটাকে ছোট বানাতে পারেন, যেমন ধরুন একটি শব্দ দিয়ে বলা আছে, এটির noun কি? মজার বিষয় হল আপনি অনেক বেশি শিখলেও কমন নাও পেতে পারেন, কিন্তু যেগুলো ব্যতিক্রম, সেগুলো যদি বুঝে মুখস্ত করতে পারেন তাহলে খুব সহজেই কমন পাবেন। গ্রামারের জন্য এখন পর্যন্ত যতগুলি বই দেখেছি, বিসিএস এর গ্রামার, PC Das এর বইটি আমার কাছে ভালো লেগেছে, এক বইয়ের মধ্যে এত সুন্দর উপস্থাপন খুব কম দেখা যায়। এছাড়া যারা একটু advance লেভেল এ কাজ করবেন তাদের জন্য কাজে লাগবে ultimate GMAT grammar বইটি। হাতে নিলেই দেখবেন, অনেক প্রশ্ন এখান থেকে এসেছে বিভিন্ন এক্সামে। তবে ইংরেজি সাহিত্যের জন্য আমার মতে সব চেয়ে ভাল উপায় হল ইন্টারনেট ভিত্তিক study. সরাসরি Google কে জিজ্ঞেস করে করে পড়বেন, একেবারে correct উত্তর পাবেন, বাজারের বইয়ে অনেক সময় ভুল পাওয়া যায়।তবে যেকোনো একটি ইংরেজি সাহিত্যের গাইড বই প্রস্তুতির জন্য রাখতে পারেন।ইংরেজিতে যারা প্রিলিতে ভাল প্রস্তুতি নেবেন, তাদের রিটেন এর প্রস্তুতি অনেকটা পূরণ হয়ে যাবে। রিটেন পরীক্ষায় গিয়ে অনেকেই বলে থাকেন যে প্রশ্ন তো কমন পরে না। ভাই, কমন পরতে হবে কে বলল, কমন বানাবেন! ধরেন, পড়ে গেলেন রামপালের ঘটনা এবং অন্যান্য বিষয়ের economic issue, কিন্তু এক্সামে আসল বাংলাদেশের economy. উত্তর দেয়ার সময় এমন ভাবে লিখবেন যেন পড়া economic বিষয়গুলো কথা এমনি চলে আসে। তবে হ্যাঁ,যেকোনো লেখায় রেফারেন্স ব্যবহার is a kind of must. উলটাপালটা রেফারেন্স দেবেন না। যা দেবেন, নিখাদ দেবেন। উত্তর দেয়ার সময় খেয়াল রাখবেন কিছু গ্রাফ, পাই চার্ট, টেবিল আকারে তথ্য উপস্থাপন করা যায় কিনা। এটা অনেক কাজ লাগবে। পাশাপাশি sentence এ ভেরিয়েশন আনবেন। মূলত আপনার কাছে চাওয়া হবে একটা প্রেসেন্টেশন, সো make it standard. ঘড়ি ধরের লেখার চেষ্টা করা অনেক কাজে আসে। তবে প্রথম দিকে সফল না হলে চিন্তা করার কিছু নেই, আস্তে আস্তে হবেন।ভাল করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন,দেখবেন এক সময় সবকিছু আপনার আয়ত্তের মধ্যে এসে গেছে। দিন শেষে একটি কথা মাথায় রাখবেন, বিসিএস বা অন্যান্য চাকুরীর পরীক্ষা একটা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। টার্গেট ঠিক রাখতে হলে এক চোখ বন্ধ রাখতে হয়, বাকি সব কিছু ভুলে যাওয়ার জন্য বা না দেখার জন্য, বাকি এক চোখ দিয়ে বন্দুকের নলের সামনে দুইটি বিন্দুকে এক লাইনে রাখতে হয় সফলতা যাওয়া যায়।
সফলতা কখনও আপনাআপনি চলে আসে না। একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে সফলতা অর্জন করে নিতে হয়।
"Success is just a war of attrition. Sure, there's an element of talent you should probably possess. But if you just stick around long enough, eventually something is going to happen." Dax Shepard
সবার জন্য শুভকামনা।

University Notes: Common BCS Viva Question

By on ৬:০২ AM
University Notes: Common BCS Viva Question: BCS tips Describe yoursel f (How to start the description, what things to say, meaning of one’s name in English, famous personalit...

বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৬

Police Regulations Bengal

By on ৫:২৪ AM

Alternative text - include a link to the PDF!

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬

বিভিন্ন ব্যাংকের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কিছু পরামর্শ

By on ৮:২০ AM
Aryan Ahmed
assistant commissioner of taxes
Image result for বিভিন্ন ব্যাংকের পরীক্ষারব্যাংক এর পরীক্ষার জন্য আলাদাভাবে যে খুব বেশি কিছু স্টাডি করতে হয় বিষয়টা এমন নয় । বিসিএস পরীক্ষার জন্য ভালমতো প্রস্তুতি নেয়ার একটা আলাদা সুবিধা আছে, কেউ যদি বিসিএস এর জন্য ভালোমতো প্রস্তুতি নেয় তাহলেই ব্যাংকের জন্য প্রস্তুতি অনেকটা হয়ে যায় । বেশিরভাগ স্টুডেন্টরা ভারী প্রস্তুতি নিতে গিয়ে পরীক্ষায় ভালো নম্বর অর্জনটাও ভারী করে ফেলেন । খেয়াল রাখবেন আপনি যাই স্টাডি করেননা কেন তা যেন পরীক্ষার হলে প্রয়োগ করে আসতে পারেন । বিভিন্ন পরীক্ষায় সাধারনত যেসব বা যে টাইপ প্রশ্ন আসে আপনাদের উচিত শুধু সেগুলো স্টাডি করা । খুব কমন নয় বা সাধারনত ব্যাতিক্রম প্রশ্ন সেগুলো পারার চেষ্টা করাটা বোকামি, তেমনি পরীক্ষায় সকল প্রশ্ন পারতেই হবে এমন মানসিকতাটাও আপনার পরীক্ষা খারাপ হবার দিকে নিয়ে যাবে । প্রশ্নের ক্যাটাগরি অনুযায়ী আপনি পরীক্ষা দিয়ে আসবেন , চেষ্টা থাকবে যেসব প্রশ্ন না পারলেই নয় সেসব যেন মিস না হয় । যেসব প্রশ্ন ঝামেলাপূর্ণ, বাদ দিন সেগুলো । আগে প্রশ্নের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একবারে যেসব প্রশ্নের উত্তর করতে পারবেন সেগুলো শেষ করে ফেলুন । MCQ পরীক্ষায় এবং লিখিত পরীক্ষায় ভালোমতো প্রশ্ন select করতে পারাটা ভালো একজন পরীক্ষার্থীর যোগ্যতা ।
কোন প্রশ্নগুলো আগে উত্তর করতে হয় এটা বুঝতে না পারলে পরীক্ষা খারাপ হবার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায় । কারন যেকোনো পরীক্ষায় এমন কিছু প্রশ্ন থাকবেই যা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে আপনার মাথা গরম হয়ে যাবে আর সময়ও নষ্ট হবে । কিভাবে একটা ভালো পরীক্ষা দেয়া যায় সেদিকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে । অনেকেই জানে যে পারার মত প্রশ্নগুলো আগে উত্তর করতে হয় কিন্তু পরীক্ষার হলে তা মানতে পারেনা, ফলে কিছু প্রশ্ন না পারলেই সেগুলো নিয়ে গবেষণা করে মাথাটা গরম বানিয়ে ফেলে । যাইহোক এবার প্রাসঙ্গিক কথায় আসা যাক । ব্যাংকের পরীক্ষার জন্য আপনি যা যা করতে পারেন -----
১-- প্রতিটি বিষয়ের জন্য ৭-১০ দিন করে সময় দিন , এর মাঝে যা পারবেন পরে ফেলার চেষ্টা করবেন । তারপর অন্য বিষয় শুরু করবেন । আপনার প্রথম টার্গেট থাকা উচিত প্রতিটি বিষয়েই মোটামুটি দক্ষতা অর্জন করা । কোন বিষয়েই খুব বেশি সময় না দিয়ে সব বিষয়ে সমান সময় দেয়ার চেষ্টা করুন । যেন গড়ে একটা ভালো পরীক্ষা দিতে পারেন । বাংলা দিয়েই শুরু করি । বাংলার জন্য এস এস সি এর বোর্ডের বাংলা গ্রামার বইটি ভালো একটি বই । সেটা থেকে মোটামুটি আয়ত্ত করার চেষ্টা করুন । এছাড়া সমিত্র শেখর স্যারের বই থেকেও দেখে নিন । এখন প্রশ্ন হল কি দেখবেন ? এজন্য বিগত বছরের বিভিন্ন ব্যাংক পরীক্ষার প্রশ্নগুলো দেখুন এবং বুঝে বুঝে সমাধান করে ফেলুন । বুঝতে পারবেন কি কি আপনাকে স্টাডি করতে হবে । বিগত বছরের প্রশ্নগুলো আপনার জন্য বেস্ট একটা গাইডলাইন । সন্ধি ,সমাস , বিপরীত শব্দ , প্রতিশব্দ , বাগধারা , দেশি বিদেশী শব্দ , বাক্যের প্রকারভেদ , পরিভাষা , উপসর্গ , যতিচিহ্ন , সমার্থক শব্দ ইত্যাদি দেখে ফেলুন । সমিত্র শেখর স্যারের বই এর শুরুর দিকের গ্রামার অংশের এক কথায় প্রশ্নগুলো দেখে নিতে পারেন ।
২-- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জন্য প্রতি মাসের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর প্রযুক্তি নিয়ে তথ্য এবং MCQ গুলো দেখতে পারেন । যেকোনো গাইড বই থেকেও রিডিং দিতে পারেন । মনে রাখবেন-- বই কিন্তু একই তারপরও অনেকেই কিন্তু এলোমেলো স্টাডি করে সবকিছু গুলিয়ে ফেলেন । তাই অল্প পড়ুন কিন্তু গোছানো ।
৩-- ইংরেজিতে আপনার ভালো দক্ষতা থাকা খুব জরুরী । নিয়মিত চর্চা করতে থাকুন । vocabulary, appropriate preposition , idioms phrase , group verb , translation এসবের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিন । বিশেষ করে অনুবাদের দিকে নজর দিন , আপনার গ্রামার এর জ্ঞান এবং vocabulary যদি strong থাকে তাহলে আপনার জন্য অনুবাদ করাটা সহজ হবে । এছাড়া analogy , antonym , synonym এগুলোতেও ভালো করতে হলে আপনার vocabulary উন্নত করুন । দৈনিক কিছু নতুন শব্দ শিখুন , dictionary থেকে দৈনিক vocabulary উন্নত করার জন্য কিছু শব্দ শিখুন । ইংরেজি নিয়ে এর আগে যেভাবে বলেছিলাম সেটা follow করতে পারেন । ইংরেজি চর্চার মাধ্যমে আপনার দক্ষতা বাড়বে । যেকোনো ভালো গ্রামার বই থেকে অনুবাদের অভ্যাস করুন । খাতায় অনুবাদ লিখুন । হুবুহু না পারলে ভাবানুবাদ করুন , প্রথম প্রথম ভুল হলেও চর্চা করতে থাকলে ধীরে ধীরে আপনার জড়তা কেটে যাবে । অনুবাদের জন্য idioms and phrase , appropriate preposition জানা খুব দরকার , এগুলো যেকোনো বই থেকে দৈনিক ১ পৃষ্ঠা হলেও মুখস্থ করে ফেলুন ।
৪-- গনিতের জন্য পাটিগণিত এবং বীজগণিতের সুত্র গুলো আয়ত্তে রাখুন, এস এস সির বই থেকে জ্যামিতির থিওরি গুলো একটু দেখুন । গনিতের সুত্র জানা থাকলে এবং কি টাইপের ম্যাথ কিভাবে সমাধান করতে হয় সেটা জানা থাকলে আপনার জন্য গনিতে ভালো করাটা অনেক সহজ হবে । অবশ্যই বিভিন্ন ব্যাংকের বিগত বছরের পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বুঝে বুঝে সমাধান করবেন । আগেও বলেছি যে গনিত শুধু দেখবেন না, যে প্রশ্নই দেখবেন সেটা খাতায় সমাধান করে ফেলার চেষ্টা করবেন । নাহলে পরীক্ষার হলে সমাধান করতে গিয়ে মারাত্মক সমস্যায় পড়বেন । আপনি বিভিন্ন ব্যাংকের বিগত ৩ বছরের পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সংগ্রহ করে সেগুলো সল্ভ করে ফেলুন । দেখবেন আপনার অনেক উন্নতি হয়েছে । কোথাও সমস্যা হলে আপনার বন্ধুদের মাঝে যারা গনিত ভালো পারে তাদের সাহায্য নিন । এজন্য যেকোনো পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় ৩-৪ জন মিলে একসাথে স্টাডি করলে অনেক সুবিধা হয় , তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে গ্রুপ স্টাডি যেন গ্রুপ আড্ডায় পরিণত না হয় ।
৫-- সাধারন জ্ঞান সবসময়ই সবার শেষে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করা উচিত যেহেতু এর কোন শেষ নেই । আপনি ১০-১৫ দিন সময় নিয়ে এই সময়ের মাঝে যা পারবেন স্টাডি করে ফেলবেন । এজন্য আবার বিগত বছরের প্রশ্ন দেখবেন , কিছুটা ধারনা হবে যে কি কি স্টাডি করতে হয় । যেকোনো গাইড বই থেকেও রিডিং দিতে পারেন , আবার কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বা কারেন্ট ওয়ার্ল্ড এর MCQ গুলোও দেখে নিতে পারেন । আজকের বিশ্ব বা নতুন বিশ্ব এই টাইপ যেকোনো বই থেকে বিভিন্ন টপিক অনুযায়ী দৈনিক দেখে যান । সব বিষয়ে সমান দক্ষ হবার চেষ্টা করবেন অবশ্যই, BANK JOB SOLUTION টাইপ গাইড থেকেও সাহায্য নিতে পারেন । মোটকথা প্রস্তুতি হওয়া দিয়ে কথা, কিভাবে, কোত্থেকে, কতক্ষন পড়ে, কোন বই পড়ে প্রস্তুতি নিলেন সেটা ফ্যাক্ট না ।
ব্যাংকের জন্য যে সেভাবে আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয় বিষয়টা কিন্তু এমন নয়, আপনি নির্দিষ্ট কিছু সময় টার্গেট করে এর মাঝে নিজেকে যতটা ভালোভাবে পারা যায় প্রস্তুত করে ফেলার চেষ্টা করুন । দেখবেন এরপর যেখানেই পরীক্ষা দিচ্ছেন খুব একটা প্রেশার পড়ছে না । আপনি যদি বি সি এস পরীক্ষার জন্য ভালো করে প্রস্তুতি নিন তবে ব্যাংক পরীক্ষার প্রস্তুতিটাও হয়ে যায় । গনিতের সকল সূত্রগুলো যেন আপনার আয়ত্তে থাকে । পরিমিতি, জ্যামিতি, বীজগণিত, পাটিগণিত এর প্রয়োজনীয় সকল সূত্র দেখুন । নিজের দক্ষতা ও জ্ঞানের পরিধি বাড়ান । আর চেষ্টা করবেন যাই স্টাডি করেন না কেন পরীক্ষার হলে আপনার পারার মত একটা প্রশ্নও যেন আপনার মিস না যায় । বিভিন্ন ব্যাংক পরীক্ষার প্রশ্নগুলো আপনার জন্য সমাধান করাটা খুবই দরকার । কম স্টাডি করবেন , যে টাইপ প্রশ্ন সাধারনত আসে সেই টাইপ স্টাডি করার চেষ্টা করবেন আর যাই স্টাডি করুন না কেন সেটার পুরোটা apply করার চেষ্টা করবেন । কে কি স্টাডি করছে কিভাবে কি পরীক্ষা দিচ্ছে সেদিকে নজর না দিয়ে নিজের মত করে স্টাডি করে যান । আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী আপনি নিজেই । নিজের বেস্টটাকে বের করে আনুন । সফল আপনি হবেনই । আমি জাস্ট একটু গাইড দেয়ার চেষ্টা করছি মাত্র । ভালো থাকবেন সবাই, Good luck guys .

বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৬

৩৬তম ভাইভা প্রিপারেশন

By on ১০:৪৬ PM
৩৫ আমার প্রথম প্রিলি,রিটেন এবং ভাইভা ছিল। প্রশাসন প্রথম পছন্দ ছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রশাসনেই সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। যদিও আমি একবারই বি সি এস ভাইভা দিয়েছি, তবুও আমার মতামত,ধারণা এবং পরামর্শ আপনাদের জানাচ্ছি।
আমার কাছে ভাইভাটা এক্সামের চেয়ে আরও বেশি কিছু। বিশেষ করে বি সি এস ভাইভা যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে!
তাই প্রিপারেশনটাও একটু ভালো করেই নেন। ভাবুন এটাই আপনার একমাত্র ভাইভা। কোন সেকেন্ড চান্স নেই। আপনাকে পারতেই হবে। হলে এবার নয়তো নয়।
*প্রথমেই নিজেকে জানুন।নিজেকে ভাঙ্গুন, বিশ্লেষণ করুন। নিজের দোষ গুলো, যা অন্যক বিরক্ত করে তা নিজেই খুঁজে বের করুন। সেসব দোষ গুলোকে দূরে ফেলে নিজেকে নতুন করে গড়ুন।
*কথা বলুন সহজ, সরল আর স্বাভাবিক ভাষায়। আপনাকে স্মার্ট হওয়ার দরকার নাই, কেবল সহজ আর স্বাভাবিক থাকুন।
*বাংলা আপনার নিজের ভাষা। তাই বাংলা উচ্চারণ শুদ্ধ হওয়া চাই। বিশেষ করে অল্প প্রাণ -মহাপ্রাণ ধ্বনির উচ্চারণ। অর্থাৎ প,ফ, ব,ভ,ড,ঢ, স,শ এসব যাতে সঠিক হয়। আর এটি একদিনে সম্ভব নয়। তাই এখন থেকে প্র্যাকটিস করুন।
*বসার ভঙ্গি থেকে শুরু করে মুখের অভিব্যক্তি সবই খেয়াল করুন। সহজ ও সোজা হয়ে বসার অভ্যাস করুন। যাতে নম্রতা ফুটে ওঠে। আই কন্টাক্ট ঠিক রাখুন।
*সব উত্তর জানা কোন নরম্যাল মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই কোন প্রশ্নের উত্তর না পারলেও স্বাভাবিক থাকুন। অনেক উত্তরই আপনি পারবেন না।
*সহজ ও বিনীত ভাবে স্বীকার করুন,বিষয়টা জানা নেই।
*হাসি মুখে পরবর্তী প্রশ্নের জন্য অপেক্ষা করুন।
*আপনি কয়টা প্রশ্নের উত্তর পারেন নি, তা অাপনার প্রতিকূল বা বিরূপ পরিস্থিতিতে আপনার মনোবলের বহিঃপ্রকাশ। তাই হতাশ বা নার্ভাস না হওয়ার চেষ্টা করুন।
*মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্কে যত সম্ভব জানুন এবং ইতিবাচক ধারণা রাখুন। এটি কেবল ভাইভা নয়, একজন সচেতন নাগরিকের জন্যও অতীত জরুরি।
*আপনার নিজের সাবজেক্টের কমন ও গুরুত্বপূর্ণ টার্ম গুলো ভালো করে জেনে রাখুন।
*কোন বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাইলে, পজিটিভ উত্তর দিন। যেমন :
আমি চেষ্টা করব বা আমি করতে চাই..... না বলে বলুন,
আমি পারবো, আমি করবো।
আপনার কণ্ঠে যেন দৃঢ়তা থাকে।
*মেধা যাচাইয়ের ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় আপনি পাস করেই এসেছেন। এটা আপনার মেধা নয়, সাথে ব্যাক্তিত্ব, মনোভাব, দৃঢ়তা, উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা সহ সক্ষমতা দেখার পরীক্ষা।
*তাই Ettiqute & politeness ধরে রাখুন।
*সর্বোপরি,
সাম্প্রতিক বিষয়,ক্যাডার চয়েজ, ক্যাডার চয়েজের কারণ, প্রথম তিনটা চয়েজ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা, নিজস্ব সাবজেক্টে ভালো জ্ঞান, ১ম ক্যাডার চয়েজের সাথে নিজ সাবজেক্টের সামঞ্জস্যতা দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে স্বচ্ছ ও পজিটিভ ধারণা এবং সাথে ভদ্র, সহজ,সরল এবং স্বাভাবিক রেসপন্সই আপনাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে।
*উপর্যুক্ত বিষয়গুলো একদিনে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়।
তাই তা এখন থেকেই প্র্যাকটিস করুন। এসব বিষয় আপনার ভাইভা নয়ং বরং বাকী জীবনেও লাগবে। যা আপনাকে আরও ভালো ও যোগ্য করে তুলবে।
*প্র্যাকটিসের জন্য আমরা করতাম কি, বেশ কয়েক জন বন্ধু মিলে Mock Viva দিতাম। আর নিজেরাই আমাদের ভুল গুলো ধরতাম। এটা অনেক কার্যকরী। আত্ম বিশ্বাস বাড়ায়, সাহস যোগায়।
*পরবর্তীতে ক্যাডার ভিত্তিক এবং কিছু দরকারি প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব।
আল্লাহ্ সৎ ও যোগ্যলোকের সহায় হোন।
শুভ কামনায় ---
তাছলিমা শিরিন
প্রশাসন ক্যাডার (সুপারিশপ্রাপ্ত)
৩৫ তম বি সি এস।

বিসিএস লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য (২য় পর্ব)

By on ১:৫৪ AM
প্রথম আলো’তে এই ধারাবাহিক লেখাটির মাধ্যমে ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষার্থীরা কী কী বিষয় নিয়ে জানতে চান, সেটা জানতে চেয়ে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। কমেন্টগুলির ভিত্তিতে আজকের লেখাটি সাজালাম।
1. আপনার লেখার কোয়ালিটি বাড়াতে দুটো কাজ করবেন। এক। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর কয়েকটি সোর্স থেকে পড়বেন। দুই। আপনার প্রস্তুতি যেমনই হোক না কেন, পরীক্ষার হলে ‘আই অ্যাম দ্য বেস্ট’ এই মনোভাবটি ধরে রাখবেন।
2. একটি প্রশ্নের জন্য যে সময়টি আপনি মনে মনে বেঁধে রেখেছেন, সে সময়ের মধ্যে কিংবা কাছাকাছি সময়ে যে করেই হোক, উত্তরটি লেখা শেষ করে দেবেন। একটি উত্তর বেশি ভাল করে লিখে আরেকটি উত্তর ছেড়ে আসা কিংবা কম লিখে আসাটা আত্মঘাতী। পরীক্ষা আবেগের জায়গা নয়, যেকোনো মূল্যে ফুল আনসার করার জায়গা।
3. ইংরেজিতে ভাল নম্বর পেতে চাইলে দুটো নীতি অনুসরণ করুন। এক। কোনো বানান ভুল করবেন না। দুই। ব্যাকরণগত ভুলবিহীন শুদ্ধ সহজ বাক্য লিখুন।
4. বিজ্ঞানে আগের বছরের প্রশ্নগুলি আর ২-৩টা গাইডের সাজেশনস্ সলভ করে ফেললে অন্তত অর্ধেক প্রশ্ন কমন পেয়ে যাওয়ার কথা। প্রয়োজনীয় চিহ্নিত চিত্র, সমীকরণ দিন।
5. প্রশ্ন কঠিন হবে কী সহজ হবে, এটা নিয়ে ভাবা মানে স্রেফ সময় নষ্ট করা। কারণ, লড়াইয়ের মাঠে সবার জন্যই একই নিয়ম, আপনার জন্য স্পেশাল কোনো প্রশ্ন পিএসসি করবে না। আপনি ঠিকঠাক উত্তর করতে না পারলে, সে সমস্যা আপনার।
6. সংবিধান মুখস্থ করার দরকার নেই। প্রশ্নের ধরণ স্টাডি করে গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদগুলি সম্পর্কে জেনে নিন, সেগুলিতে কী বলা আছে, ওইটুকু নিজের মতো করে লিখতে পারলেই চলবে।
7. যে টপিকগুলি চর্চা করার ব্যাপার আছে (যেমন, ব্যাকরণ), সেগুলি অবশ্যই অন্তত ৩টি গাইডবই থেকে চর্চা করবেন।
8. আপনি যদি কোনো একটি বিষয়ে খুবই দুর্বল হন, তবে সে বিষয়ে সবল হওয়ার চেষ্টা বাদ দিয়ে যে বিষয়টি আপনি ভালোভাবে পারেন, সেটি আরও ভাল করে পড়ুন। এতে আপনি প্রথম বিষয়ে যত নম্বর কম পাবেন, দ্বিতীয় বিষয়ে আরও কম সময় দিয়ে তার চাইতে বেশি নম্বর তুলতে পারবেন। সে বেঁচে যাওয়া সময় অন্য একটি বিষয়ের পেছনে দিন।
9. ১ পৃষ্ঠা তথ্যবহুল লেখা ৩ পৃষ্ঠা তথ্যবিহীন লেখার চাইতে ভাল নম্বর পেতে বেশি সহায়তা করে।
10. হাতের লেখা সুন্দর হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই, লেখা যেন পড়া যায়। আপনার ফন্টের আকার বেশি বড় হলে, আপনি আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীর চাইতে একই সময়ে কম লিখতে পারবেন।
11. কোনো একটি টপিক নিয়ে কম সময়ে অনেক বেশি জানার জন্য গুগলের সহায়তা নিন। প্রয়োজনে বাংলায় টাইপ করে অপশনস্ কাস্টমাইজ করে খুঁজতে পারেন।
12. মানসিক দক্ষতার জন্য অল্প সময়ে ভাল প্রস্তুতি নিতে ৩টা গাইডবইয়ের সব প্রশ্নোত্তর পড়ে ফেলুন।
13. আপনি অংক কম পারেন? আপনি অংকে ৫০ পাবেন না, ৩৫ পাবেন---এটা মেনে নিন। ১৫ নম্বরের জন্য যত বেশি টেনশন করবেন, অন্যান্য বিষয়ে আপনার ৫০ নম্বর হারানোর আশংকা তত বেশি থাকবে।
14. যারা ইংরেজিতে বেশি দুর্বল, তারা বিসিএস লিখিত পরীক্ষার জন্য দরকারি, এমন কোনো টপিক নিয়ে ভুল হোক, শুদ্ধ হোক, প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যয় করে ৫-৬ পৃষ্ঠা করে লিখবেন।
15. যারা যে বিষয়টিতে ভাল, তাদের সাথে পারতঃপক্ষে সে বিষয়ে আপনার দুর্বলতা নিয়ে এই সময়টাতে কোনো আলাপ করবেন না।
16. বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর উত্তরের শেষ প্যারায় বিভিন্ন কলামিস্ট, বিশেষজ্ঞ ও আপনার নিজস্ব মতামত এবং বিশ্লেষণ দিলে নম্বর বাড়বে।
17. একটা প্রশ্ন মুখস্থ করার চাইতে সে একইসময়ে কয়েকটা প্রশ্ন বিভিন্ন সোর্স থেকে পড়ে ফেলাটা বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার রিডিং হ্যাবিট যত ভাল হবে, আপনার রাইটিং স্টাইল তত উন্নত হবে।
18. পরীক্ষায় মূল খাতায় চারদিকে মার্জিন করে আর অতিরিক্ত পাতায় চারদিকে ভাঁজ করে লিখতে পারেন। কোটেশন লিখতে নীল কালি ব্যবহার করুন।
19. গ্রন্থ সমালোচনা অংশের জন্য পরিচিত, গুরুত্বপূর্ণ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ও অন্যান্য ৩০টি উপন্যাস সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
20. গভীর রাতে ঘুম তাড়াতে সহজ টপিকগুলি পড়ুন। ‘জাস্ট ৫ মিনিটের জন্য’ ফেসবুকে ঘুরে আসতে লগইন করবেন না।
21. কোন বিষয়ে কত পেতে পারেন, এটা নিয়ে একটা ছক করে ফেলুন। গড়ে আপনার নম্বর যেন ৬৫ এর নিচে না নামে।
22. কলিগরা আঁতেল বলুক আর যা-ই বলুক, চাকরিজীবীরা চাকরিতে যাওয়ার সময় সাথে করে বিসিএস এর গাইডবই নিয়ে যাবেন আর সুযোগ পেলেই পড়বেন।
23. আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি, রেফারেন্স বই পড়ার অতো সময় এখন আর নেই। গাইডবই আর ইন্টারনেট থেকে সাজেশনস্ ধরে ধরে পড়াশোনা করুন।
24. হাতের আঙুল আর কব্জি ব্যথা না করে এ পর্যন্ত কেউই চাকরি পায়নি, আপনিও পাবেন না। কোন প্রশ্নের উত্তর কত পৃষ্ঠা লেখা উচিত, এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনার চিন্তা করার আর লেখার দ্রুততার উপরেই এটি সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে।
25. যাদের হাতের লেখা স্লো, তারা কম লেখার ক্ষতিকে পুষিয়ে নেবেন বেশি বেশি তথ্য-উপাত্ত আর উদ্ধৃতি দিয়ে।
আজ আর নয়। পরের পর্বে বাকি কথা হবে। হ্যাপি রিডিং!

বিসিএস লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য

By on ১:৪৯ AM
পরেরবার ফাটিয়ে পরীক্ষা দেয়া বলে আসলে কিছু নেই। আপনি আগে কী করেছেন, কী করেননি, সেসবের হিসেব না করে এখনকার ‘আপনি’কে নিয়ে ভাবুন। আমাদের শরীর চলে শরীরের ক্ষমতায় নয়, মনের ক্ষমতায়। একজন সুস্থ মানুষের পরিশ্রম করতে না পারাটা মূলত এক ধরণের মানসিক অক্ষমতা। এই কয়টাদিনকে নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজে লাগান। দেখুনই না কী হয়!
1. ‘আনকমন প্রশ্ন’ বলে কিছু নেই। পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন না এলে বানিয়ে লিখে দিয়ে আসতে হবে, বানাতে না পারলে কল্পনায় আনতে হবে, কল্পনায় না এলে জোর করে কল্পনা করতে হবে। আপনি উত্তর করছেন না, এটা কোনো সমস্যা না। সমস্যা হলো, কেউ না কেউ সেটা উত্তর করছে।
2. ০.৫ মার্কসও ছেড়ে আসা যাবে না। যে করেই হোক, ‘ফুল আনসার’ করে আসতে হবে।
3. অন্তত ৩টা ডাইজেস্টের শুধু প্রয়োজনীয় অংশগুলি অতি দ্রুত পড়ে নিন। পাণ্ডিত্য নয়, চাকরি চাই।
4. আপনার আগে কেউ ফাঁকিবাজি করে পার পেয়ে গেছে মানেই যে আপনিও ফাঁকিবাজি করে পার পেয়ে যাবেন, এটা কখনোই ভাববেন না।
5. আপনার ব্যক্তিগত দুঃখ আর যন্ত্রণা আপনার পরীক্ষা খারাপ হওয়ার কোনো অজুহাত হতে পারে না, অন্তত চারপাশের পৃথিবীটা তা-ই মনে করে। আপনার কষ্টগুলি বড়োজোর আপনার দুর্ভাগ্য; কিন্তু আপনার ব্যর্থতাগুলি আপনার ব্যর্থতাই, আর কিছু নয়।
6. আমি বিশ্বাস করি, ভালো প্রস্তুতি থাকলেই যেমনি ভালো পরীক্ষা দেওয়া যায় না, তেমনি খারাপ প্রস্তুতি থাকলেই খারাপ পরীক্ষা দেওয়া যায় না। ফলাফল সব সময়ই চূড়ান্ত ফলাফল বের হওয়ার পর, আগে নয়। এর আগ পর্যন্ত আপনি কিছুতেই কারও চেয়ে কোনো অংশেই কম নন।
7. এ সময়ে কিছু অভিনব প্রশ্নসমৃদ্ধ ‘টাচ অ্যান্ড পাস’ টাইপের সাজেশন পাওয়া যায়। এসব থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন। নিজের সাজেশনসের ওপর নির্ভর করাই ভালো।
8. একটা ‘নো এক্সকিউজেস’ জীবন কাটান। আপনি সফল হলে আপনার এক্সকিউজ দেখাতে হবে না। আপনি ব্যর্থ হলে আপনার এক্সকিউজ কেউ শুনবেই না। নিজেকে ক্রমাগত আঘাত করুন, নিজের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিন প্রতিটি মুহূর্তেই।
9. কার কতটুকু পড়া হল, সে খবর কখনোই নেবেন না। আপনারটা নিয়ে ভাবুন।
10. কোন প্রশ্নের উত্তর কত পৃষ্ঠা লিখতে হবে, সেটা নির্ভর করে প্রশ্নটির নম্বর, গুরুত্ব, সময় আর আপনার লেখার দ্রুততার ওপর। সময় সবার জন্যই তো সমান, এটার সঠিক ব্যবস্থাপনাই আসল কথা।
11. কোনো টপিক একেবারেই না পড়ে গেলে পরীক্ষায় বানিয়ে লেখাটাও সহজ হবে না। সবকিছু একবার হলেও ‘টাচ করে’ যান।
12. পড়তে বসলে সামনের কয়েকঘণ্টায় কী কী পড়বেন, সেটা কাগজে লিখে ফেলুন, এরপর পড়ুন। সামনের কয়েকদিনে কী কী পড়বেন, সেটা নিয়ে কখনোই ভাববেন না।
13. পরীক্ষার আগ পর্যন্ত গুনে গুনে ৪ ঘণ্টা ঘুম। কী? হবে না? হবে, হবে। অনেকেই এটা পেরেছে। আপনি পারবেন না কেন?
14. প্রশ্ন নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১৫ মার্কসের একটি প্রশ্ন উত্তর করার চেয়ে ৪+৩+৩+৫=১৫ মার্কসের চারটি প্রশ্ন উত্তর করা ভালো।
15. ফেসবুকিং ছেড়ে দিন। একদমই! ফোন রিসিভ করুন হিসেব করে।
16. বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি পড়বেন কম। বাকি চারটা বেশি বেশি পড়ুন।
17. বাইরে কোথাও মডেল টেস্ট দেয়ার দরকার নেই। বাসায় অনেকবেশি সময় দিন।
18. বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে লেখেন, এ রকম ২৫-৩০ জনের নাম এবং তাঁদের ‘এরিয়া অব ইন্টারেস্ট’ ডায়েরিতে লিখে রাখুন। উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় কাজে লাগবে।
19. বিভিন্ন কলামিস্টের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ইস্যুকে ব্যাখ্যা করে উত্তরের শেষের দিকে আপনার নিজের মতো করে নিজের বিশ্লেষণ দিয়ে উপসংহার টানুন। কোনো মন্তব্য কিংবা নিজস্ব মতামত থাকলে (এবং না থাকলেও) লিখুন।
20. বেশি বেশি পয়েন্ট দিয়ে প্যারা করে করে লিখবেন। প্রথম আর শেষ প্যারাটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় হওয়া চাই।
21. যা যা পড়ছেন, তার তেমন কিছুই মনে থাকবে না। শতভাগ প্রস্তুতি নিয়ে কারও পক্ষেই লিখিত পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। শতভাগ শিখেছি ভেবে তার ৬০ ভাগ ভুলে গিয়ে বাকি ৪০ ভাগকে ঠিকমতো কাজে লাগানোই আর্ট৷
22. যারা প্রথমবার বিসিএস দিচ্ছেন, তাদেরকে বলছি। ব্যর্থতার কোনো ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড টাইম বলে কিছু নেই। ব্যর্থতা ব্যর্থতাই! নিজেকে অতো ক্ষমা করে দিলে জীবন চলে না।
23. রাষ্ট্রের কিংবা সরকারের নেতিবাচক কোনোকিছুই পরীক্ষার খাতায় লিখবেন না।
24. শর্টকাটে ম্যাথস করবেন না, প্রতিটি স্টেপ বিস্তারিতভাবে দেখাবেন।
25. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, টীকা, শর্ট নোট, সারাংশ, সারমর্ম, ভাবসম্প্রসারণ, অনুবাদ, ব্যাকরণ ইত্যাদি ভালোভাবে পড়ুন।
26. সংবিধানের সব অনুচ্ছেদ আমার মুখস্থ ছিল না, অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য-উপাত্ত অত ভালো জানতাম না, মুখস্থবিদ্যা ছিল না, তবুও আমি চাকরি পেয়েছি। তবে আপনি পাবেন না কেন?
যা হওয়ার, তা-ই হবে। আপনার রিজিক অবশ্যই পূর্বনির্ধারিত করা আছে। আপনি আপনার কাজের মাধ্যমে সেটা অর্জন করার রাস্তাটাকে অধিক সম্মানিত কিংবা কম সম্মানিত করতে পারেন, আর কিছুই না। নিজের উপর বিশ্বাস হারাবেন না, কারণ পৃথিবীতে এই একটি মানুষই শেষ পর্যন্ত আপনার পাশে থেকে যাবে। গুড লাক!